
ক্লিন এবং হেলদি ত্বক সকলেই চায়। কিন্তু এই চাওয়ায় যে প্রবলেমগুলো বাঁধা হয়ে দাড়ায়, তার মধ্যে ব্লাকহেডস অন্যতম। আসলে আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করতে এই ব্লাকহেডসই যথেষ্ট। এই ছোট ছোট ব্লাকহেডস মুলত নাক, কপাল ও থুতনিতে দেখা যায়। এর মধ্যে নাকের ব্লাকহেডস নিয়ে সমস্যায় থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। অনেকে হাতে চাপ দিয়ে এগুলো বের করার চেষ্টায় থাকেন, আবার অনেকে এই ব্লাকহেডস তোলার জন্য পার্লারে হাজার হাজার টাকাও খরচ করেন। কিন্তু এত টাকা খরচ না করে, কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এই সমাধানগুলোই দেয়ার চেষ্টা করবো আজকের ব্লগে। তবে তার আগে জেনে নেব ত্বকে অতিরিক্ত ব্লাকহেডস হওয়ার কারণ।
ব্ল্যাকহেডস হওয়ার কারণ
-
- অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন: তৈলাক্ত ত্বকে সিবাম বেশি প্রডিউস হয়, যা ব্ল্যাকহেডস হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
-
- ডেড স্কিন সেলস: নিয়মিত ত্বক এক্সফোলিয়েট না করলে ডেড স্কিন সেলস লোমকূপের ভিতরে জমা হয়ে ব্ল্যাকহেডস তৈরি করে।
-
- হরমোনের পরিবর্তন: এডোলেসেন্স (বয়ঃসন্ধিকাল), প্রেগনেন্সি বা পিরিয়ডের সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সিবাম উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে।
-
- ভুল মেকআপ ও স্কিনকেয়ার পণ্য: নন-কমেডোজেনিক (non-comedogenic) পণ্য ব্যবহার না করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্ল্যাকহেডস হতে পারে।
-
- পরিবেশগত কারণ: হিউমিড ওয়েদার, পরিবেশগত দূষণ ব্ল্যাকহেডস হওয়ার কারণ হতে পারে।
এবার আসি, ব্লাকহেডস থেকে রেহাই পাওয়ার সহজ কিছু সমাধান নিয়ে।
১. সঠিক ক্লিনজিং
দিনের শুরু ও শেষে ক্লিনজিং খুব জরুরি। দিনে ২ বার একটি মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ক্লিন করুন। স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত (salicylic acid) ক্লিনজার ত্বক ডিপলি ক্লিন করতে হেল্প করে। আবার অতিরিক্ত ব্লাকহেডস এর সমস্যা থাকলে ব্যবহার করুন বেনজয়াইল পারক্সাইডযুক্ত ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ।
২. নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন
নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন ব্ল্যাকহেডস দূর করার একটি কার্যকর উপায়। এক্সফোলিয়েশন ডেড স্কি সেলস সরিয়ে পোরগুলোকে ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখে। আর ব্লাকহেডস যেহেতু আমাদের পোরস এর ভেতরে থাকা ধুলো-ময়লা থেকে হয়, তাই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার স্কিন এক্সফোলিয়েট করা জরুরী। তবে খেয়াল রাখতে হবে খুব বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না।
৩। স্টিমিং
মুখে স্টিম নিলে লোমকূপের মুখ খুলে যায়, যা ব্ল্যাকহেডস বের করতে অনেকটা সহজ করে। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তার উপর মুখ রেখে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে নিন। ৫-১০ মিনিট স্টিম নেওয়ার পর হালকা হাতে ব্ল্যাকহেডস বের করার চেষ্টা করতে পারেন বা ক্লিনজিং ও মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
৪। ক্লে মাস্ক
ক্লে মাস্ক অতিরিক্ত সিবাম শোষণ করে লোমকূপ পরিষ্কার করতে দারুণ কার্যকর। ভালো মানের একটি ক্লে মাস্ক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বককে ডিটক্সিফাই করে এবং ব্ল্যাকহেডস কমাতে সাহায্য করে।
৫। নোজ স্ট্রিপস
ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের নোজ স্ট্রিপস। এগুলো ব্লাকহেডস ও হোয়াইটহেডস ভিতর থেকে টেনে বের করতে সাহায্য করে।
যেমন, গ্রুমির টি- ট্রি নোজ স্ট্রিপস ও চারকোল নোজ স্ট্রিপস পোরস এ জমে থাকা ধূলো-ময়লা পরিষ্কার করে এবং আপনার ত্বক রাখে ব্লাকহেডস ফ্রি।


ব্লাকহেডস এর সমস্যাকে কখনই ছোট করে দেখা উচিত না। কারণ এটি যে কেবল চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে তা না, একনি- পিম্পলের জন্যও এই ব্লাকহেডস অনেকাংশে দায়ী।
গ্রুমি টি- ট্রি নোজ স্ট্রিপস ও চারকোল নোজ স্ট্রিপসসহ স্কিন কেয়ারের অথেনটিক সব প্রোডাক্ট পেতে ভিজিট করুন mygroome.com এ। অথবা অর্ডার করুন ফেসবুক পেজ Groome থেকে।
লিখেছেন আফরোজ জান্নাত হৃদিতা